খেলাফত: মানবতার জন্য আশীর্বাদ

প্রতিশ্রুত মসিহ তাঁর আবির্ভাবের মূল উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন : আল্লাহ এবং মানবজাতির মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপন এবং মানবজাতির  প্রতি কর্তব্যশীল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা।  এই উদ্দেশ্য পূরণে তিনি তাঁর পুরো জীবন অতিবাহিত করেছিলেন।

হজরত ইমাম মাহ্দী ও মসিহ মাউদ আলাইহে ওয়া সাল্লাম

তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর খলিফারা তাঁর মিশন কে দুর্দান্ত সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন । আহমদীয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম খলিফা হযরত মির্জা মাসরুর আহমাদ (আল্লাহ তাঁর হাতকে শক্তিশালী করুন) এর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র  সফর এর একটি সুন্দর উদাহরণ। এ সফরে খেলাফত-এ-আহমদিয়া এই উভয় ফ্রন্টে যে অসংখ্য কাজ করছে তার একটি নমুনা পাওয়া যায়।

নিখিল বিশ্ব আহমাদিয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম খলিফা হজরত মির্জা মাসরুর আহমাদ (আল্লাহ তার হাতকে শক্তিশালী করুন )

আফ্রিকা, এশিয়া এবং বিশ্বের অনেক সুবিধাবঞ্চিত অংশে আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের মানবিক সেবা সুপরিচিত।  হজরত খলিফাতুল মসিহের তত্ত্বাবধানে হিউম্যানিটি ফার্স্ট সময়ে সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলগুলিকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করে আসছে।  এই প্রচেষ্টাগুলি এমটিএ সংবাদ এবং জামায়াতের সংবাদপত্র এবং ম্যাগাজিনগুলির মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে, তবে জনগণের নজরে খুব কমই আসে। হিউম্যানিটি ফার্স্ট একটি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে অধিষ্ঠিত।  এর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা হজরত খলিফাতুল মসিহ এর নিকট তাঁর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়, দিকনির্দেশনা চাওয়া হয় এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়।

খুব কমই লোক জানত যে গুয়াতেমালায় মধ্য আমেরিকান অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল পরিকল্পনা করা হচ্ছে।  হুজুর ২৩ অক্টোবর ২০১৮ এ এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেছিলেন এবং হযরত খলিফাতুল মসিহ এই অঞ্চলের লোকদের একটি সুন্দর উপহার  দিয়েছিলেন তা পুরো বিশ্ব দেখতে পেয়েছিল।

এই অত্যাধুনিক হাসপাতাল সকলেরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম।  খিলাফত-এ-আহমদিয়ায়ার এই মহান মানবিক সেবার কার্য দীর্ঘদিন যাবত করে যাচ্ছে।  এ ধরনের মানবিক সেবা কার্যক্রম বিশ্ব গত ১৩০ বছর ধরে অবলোকন করছে। এটি এমন অনেক প্রমাণের মধ্যে একটি।

আমেরিকা সফরের সময় হযরত খলিফাতুল মসিহ ফিল্ডেলফিয়াতে দুটি মসজিদ এবং  বাল্টিমোরে দুটি মসজিদ উদ্বোধন করেছেন, যেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা  আহমদীয়া মুসলিম জামাতের পঞ্চম খলিফার কথা শোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেখানে  তিনি মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছিলেন।  এই অনুষ্ঠানগুলোতে দর্শক-শ্রোতারা দেখেছিল যে মানবজাতিকে তার স্রষ্টার সাথে সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যটি কত সুন্দরভাবে পরিবেশন করছেন।  এটি হযরত খলিফাতুল মসিহর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চতুর্থ সফর, সেখানে তিনি যে বার্তাটি পৌঁছে দিয়েছেন তা হল: ইসলাম একটি শান্তিপূর্ণ ধর্ম যা বিশ্ব শান্তি অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা করে এবং এই লক্ষ্যের একমাত্র উপায় হ’ল বিশ্বজগতের স্রষ্টাকে স্মরণ করা এবং  তাঁর আদেশ মতই কাজ।

আমরা অবশ্যই ভুলে যাব না যে এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে  ইসলামের ছদ্মবেশে কিছু দুর্বৃত্তরা চরম সহিংস উপায়ে আক্রমণ করেছিল।  টুইন টাওয়ারে আক্রমণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।  দুর্বৃত্তরা বলেছিল যে তারা আমেরিকাবাসীদের জানাতে চাইছিল যে ইসলাম আসলে কী।

অন্যদিকে,  নিখিল বিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের নেতা খলিফাতুল মসিহ হযরত মির্জা মাসরুর আহমাদ একই উদ্দেশ্যে আমেরিকার জনগণের কাছে গিয়েছেন, তবে এমন এক সর্বোত্তম পদ্ধতিতে যা ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমল করেছেন।  প্রতিশ্রুত মশীহ এবং মাহদী, কাদিয়ানের হযরত মির্জা গোলাম আহমদ, যিনি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন যে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন শান্তির রাজপুত্র এবং জিহাদের নামে সন্ত্রাসবাদের ধারণার শিক্ষাটি তাঁর শিক্ষার সাথে দুরতম সম্পর্কও নেই।।

আজকের দিনে,  এই সত্যকে কথা এবং কর্মের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে জানাচ্ছেন প্রতিশ্রুত মশীহের পঞ্চম উত্তরসূরি এবং তিনি দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করে  বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে  সহিংসতা নয়   ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম।  তিনি গণমাধ্যম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী এবং বিশ্বের সকল অঞ্চলে, বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বের সাধারণ জনগণের সাথে কথা বলেন এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা কে তুলে ধরছেন।

সাইফুল ইসলাম http://www.voiceofislambangla.com

লাইভ বাংলা রেডিও।
%d bloggers like this: