আহমদীয়া মুসলিম জামাত শালীনতা বজায় রেখে মুরতাদ আনোয়ার সাদাতের অভিযোগ সমূহের উত্তর দিয়েছে।https://youtu.be/sTygEffsdP0

মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া তারুয়ার উদ্যোগে আজ ১৯-৫-২০২০ এই মহামারীতে শ্রমিকের সংকট থাকায় একজন কৃষক ৩৮ শতক জমির ধান কেটে দিয়ে ধান পৌছিয়ে দেওয়া হয়।এই মহতি কাজে ৩০ জন খোদ্দাম আতফাল এবং একজন আনসার অংশগ্রহণ করেন।খোদ্দাম আতফালরা আনন্দের সাথে কাজ করেন।দীর্ঘ ৩ ঘন্টা প্ররিশ্রমের পর ধান কাটার কাজ সমপূর্ণ হয়।সাশ্রয় ২২০০ টাকা।খাকসার কায়েদ,তারুয়া।

https://www.facebook.com/groups/259916591461825/permalink/668181457302001/?sfnsn=mo&d=n&vh=i

বৌদ্ধধর্মে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আগমন বার্তা ও এর পূর্ণতা। – শাহ মোঃ নুরুল আমিন।

পূর্বে উল্লেখ করেছিলাম আজ শুধুমাত্র উপমহাদেশে পঞ্চাশ কোটির উপরে মুসলমান রয়েছে। তাদের পূর্ব-পুরুষরাও অধিকাংশ হিন্দু অথবা বৌদ্ধ ছিল। আমার জানতে ইচ্ছা হতো তাদের মুসলমান হওয়ার কারণ কি ছিল? ইসলাম কেন তার উৎপত্তি স্থলের গন্ডি ভেধ করে হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে ভারতবর্ষে বিস্তার লাভ করেছে। কেন কাশ্মির, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ অধ্যুষিত হওয়ার পরও মুসলমান হয়ে গেল। অনেক ঐতিহাসিক কারণ আছে। তবে সব কারণের মাঝে অন্যতম একটা কারণ হল- ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.) হলেন এমন এক মহান ব্যক্তিত্ব যাঁর আগমন বার্তা পৃথিবীর সবগুলো প্রধান প্রধান ধর্মে তাঁর আগমনের বহু পূর্ব থেকে বিদ্যমান ছিল। এটা বৌদ্ধ ধর্মেও ছিল। যে কারণে এ ধর্মের লোকেরা বাব-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে দলে দলে মহানবী(স.)এর আগমন বার্তা শুনে ইসলাম ধর্মের পতাকা তলে এসে সমবেত হয়েছে।
আজকের পর্বে বৌদ্ধধর্মে মহানবী(স.)এর যে আগমন বার্তা ছিল এটা আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

• গৌতম বুদ্ধই প্রথম ও শেষ বুদ্ধ নন ভবিষ্যতেও বুদ্ধ আসবেন
……………………………………………………….
গৌতম বুদ্ধই প্রথম ও শেষ বুদ্ধ নন। তাঁর পরেও জগতে বুদ্ধ আসবেন। তিনি যে উৎস্য থেকে বুদ্ধত্ব লাভ করে জগতে এসেছেন তারাও এই একই উৎস থেকে বুদ্ধত্ব লাভ করে জগতে আসবেন। এ বিষয়ে স্বয়ং গৌতম বুদ্ধ বলে গেছেন, এটা ত্রিপিটকে কমপক্ষে বিশ জায়গাতে আছে। বলছেন-
“আমি জানি অতীতের বুদ্ধগণ সকলেই চিত্তের উপক্লেশ প্রজ্ঞাদুর্বলকারী পঞ্চনীবরণ পরিহার করিয়া, চতুর্বিধ স্মৃতি-প্রস্থানে চিত্তকে সুপ্রতিষ্ঠিত করিয়া, সপ্ত বোধ্যঙ্গ যথারূপে অনুশীলনপূর্বক অনুত্তর সম্যক সম্বোধি প্রাপ্ত হইয়াছিলেন। যাহারা ভবিষ্যতে বুদ্ধ হইবেন তাহারা সকলেই ঐ একই মার্গ অবলম্বন করিয়া সম্বোধি প্রাপ্ত হইবেন। বর্তমানে ভগবানও ঐ মার্গই অবলম্বন করিয়া সম্যকসম্বুদ্ধ হইয়াছেন।” (ত্রিপিটক, দীর্ঘনিকায়, দ্বিতীয় খন্ড, মহাপরিনির্বাণ সূত্রান্ত, প্রথম অধ্যায়, শ্লোক-১৭, পৃ-৫৮)
ত্রিপিটকের উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট ভবিষ্যতেও বুদ্ধের অর্থাৎ গৌতম বুদ্ধের মত মহাপুরুষের আগমন হবে।

• গৌতম বুদ্ধের পুনর্জন্ম হবে না
…………………………………………….
কেউ বলতে পারেন, ভাবতে পারেন হয়তো গৌতম বুদ্ধ নিজেই আসবেন। ভবিষ্যত বুদ্ধ হিসেবে তাঁর পুর্নজন্ম হবে। কিন্তু বুদ্ধের বাণী এটাকে সমর্থন করে না। ত্রিপিটকের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট বলা আছে তাঁর পুর্নজন্ম হবে না।
বুদ্ধ তাঁর শিষ্য আনন্দকে সম্মোধন করে বলেন, “আমার বিমুক্তি অচলা, এই আমার শেষ জন্ম , আর পুনর্জন্মের সম্ভাবনা নেই। (ত্রিপিটক, অঙ্গুত্তর নিকায়, চতুর্থ খন্ড, নবম নিপাত, দ্বিতীয় পঞ্চাশক, মহা বর্গ, তপস্যু সূত্র, শ্লোক-৪১.১৩, পৃ-৪২৫)
বুদ্ধ আবার বলছেন, “আমার জ্ঞান ও দর্শন উৎপন্ন হইলঃ আমার এই অর্হত্ত্বফল বিমুক্তি অকোপিত, এই আমার অন্তিম জন্ম, এখন হইতে আমার আর পুনর্জন্ম নাই।” (ত্রিপিটক, অঙ্গুত্তর নিকায়, প্রথম খন্ড, তিক নিপাত, ১১শ অধ্যায়- সম্বোধি (বোধিজ্ঞান লাভ) বর্গ, শ্লোক-১০১(খ), পৃ-২০৬)
এছাড়া একই বিষয় উল্লেখ আছে- (ত্রিপিটক, অঙ্গুত্তর নিকায়, চতুর্থ খন্ড, নবম নিপাত, দ্বিতীয় পঞ্চাশক, মহা বর্গ, তপস্যু সূত্র, শ্লোক-৪১.১৩, পৃ-৪২৫) (ত্রিপিটক, মহাবর্গ, মহাস্কন্ধ, (৬) ধর্ম্মচক্র প্রবর্ত্তন, পৃ-৫০)
উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলো থেকে সাব্যস্ত গৌতম বুদ্ধ জন্ম-মৃত্যুর বাধন মুক্ত হওয়ায় তাঁর আর পুর্নজন্ম হবে না। জগতে আড়াই হাজার বছর আগে কপিলাবস্তুর তাঁর জন্মই প্রথম ও শেষ জন্ম ছিল। তাই পরে যেসব বুদ্ধ আসবেন তাঁরা কপিলাবস্তুর গৌতম বুদ্ধ (আ.) নন। তাঁরা অন্য বুদ্ধ হবেন। অন্য মহাপুরুষ হবেন। যাঁদের কথা মহাত্মা গৌতম (আ.) বলে গেছেন। তাই বুদ্ধধর্মের অনুসারীদের, মান্যকারীদের তাঁদের অনুসন্ধান করা উচিত। বের করা উচিত তাঁরা কারা?
ভবিষ্যতে আগমনকারী বুদ্ধ গৌতমের চেয়েও অনেক বড় হবেন। অনেক বেশি ঋদ্ধিসম্পন্ন হবেন। এ প্রসঙ্গে বুদ্ধ বলছেন-

কিং এতং অচ্ছরিয়ং লোকে য়ং মে ইদ্ধি বিকুব্বণং,
অঞে বহু অচ্ছরিয়া অব্ভুতা লোমহংসনা।

অনুবাদ: জগতে আমার যেই ঋদ্ধি প্রদর্শিত হইয়াছে, ইহা কী আশ্চর্য! ইহা অপেক্ষা আরও অনেক আশ্চর্য, অদ্ভুত ও লোমহর্ষণজনক ঋদ্ধি আছে। (ত্রিপিটক,)

শুধু গৌতম বুদ্ধের চেয়ে ঋদ্ধিতেই তিনি বড় হবেন না। তাঁর কাজের পরিধিও হবে গৌতম বুদ্ধের চেয়ে বেশি বিস্তৃত। এমন কি যারা গৌতম বুদ্ধের যুগ পেয়েও মুক্তি লাভ করতে পারেনি তারাও ভবিষ্যত বুদ্ধের আগমনে মুক্তি লাভ করবে। তাঁর আগমন সবার জন্য হবে। সার্বজনীন বুদ্ধ তিনি হবে। তিনি বিশ্ববুদ্ধ হবেন।

যথা মনুস্রা নদিং তরন্তা পাটতিথং বিরজ্ঝিয়,
হেটঠা তিত্থে গহেত্বান উত্তরন্তি মহানন্দিং।
এবমেব ময়ং সব্বে য়দি মুঞ্চামিমংজিনং,
অনাগতমিহ অদ্ধাতে হেস্রাম সম্মুখা ইমং।

অনুবাদ: মানুষেরা যেমন নদী পার হইবার সময় সম্মুখের নির্দিষ্ট ঘাট ভুলে অতিক্রম করিয়া গেলেও পরবর্তী ঘাটে মহানদী পার হইয়া থাকে,
সেরূপ আমরা সকলে এই বর্তমান বুদ্ধের সময়ে মুক্তি লাভে বঞ্চিত হইলেও অনাগতে ইহার সম্মুখীন হইয়া মুক্তি লাভ করিব।

তিনি শুধু বিশ্ববুদ্ধই হবেন না। তিনি মানুষের মাঝে সে বুদ্ধ হোক অথবা সাধারণ মানুষ হোক সবার মাঝে শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ নরশ্রেষ্ঠও হবেন। এই নরশ্রেষ্ঠ সম্পর্কে এক বার ব্দ্ধুকে প্রশ্ন করা হয়েছে। বুদ্ধ একাধারে তাঁর অনেক গুণ বর্ণনা করে গেছেন। যা ত্রিপিটকে সংরক্ষিত আছে। (ত্রিপিটক, সুত্তনিপাত, অষ্টক বর্গ, পুরাভেদ সুত্তং- ১/৮৫৪ হতে ১৪/৮৬৭, পৃ- ২৩৯-২৪১)

প্রশ্ন একটাই যাঁর হাত ধরে বিশ্ব মানবতা মুক্তি পাবে। আলো পাবে। যিনি নরশ্রেষ্ঠ হবেন। তিনি কখন আসবেন? কে হবেন?

• হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা(স.)এর আগমনের সময়কাল
………………………………………………….
গৌতম বুদ্ধ বিশুদ্ধ দিব্যচক্ষু দ্বারা মানব কায়া অতিক্রম করে সহস্র লোক পর্যন্ত দেখতে পেলেন। দেখতে পান, ততদিন পর্যন্ত তাঁর ধর্ম, তাঁর শিক্ষা অটল, বিশুদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত থাকতো। আর এটা তখন হতো যদি মহিলাদের সঙ্ঘে না নেয়া হতো। মহাপ্রজাপতি গৌতমীকে সঙ্ঘের মাঝে নেয়ার পর গৌতম বুদ্ধ তাঁর প্রধান শিষ্য আনন্দকে সম্মোধন করে বললেন, মহিলাদের সঙ্ঘে নেয়ায় এখন মাত্র পাঁচশত বছর তাঁর ধর্ম বিশুদ্ধ থাকবে। গৌতম বুদ্ধ বলেন,

“অতঃপর আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানের নিকট উপস্থিত হন, উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন করতঃ একপ্রান্তে উপবেশন করেন। একপ্রান্তে উপবিষ্ট আয়ুষ্মান আনন্দ ভগবানকে বলেনঃ ‘ভন্তে ভগবান! মহাপ্রজাপতী গৌতমী অষ্টগুরুধর্ম আজীবন অলংঘনীয় হিসাবে মেনে নিয়েছেন।’ ‘আনন্দ! মাতৃজাতি প্রব্রজ্যা লাভের অনুমতি প্রাপ্ত না হলে জগতে সুদীর্ঘকাল শাস্তা শাসন স্থায়ী হতো। সহ¯্র বৎসর সদ্ধর্ম সুনির্মল ও সুবিশুদ্ধ থাকতো। যেহেতু আনন্দ! মাতৃজাতি তথাগত প্রবেদিত ধর্মবিনয়ে আগার ত্যাগ করে অনাগারিক প্রব্রজ্যা লাভ করল, সে কারণে আনন্দ! এখন ব্রহ্মচর্য্য চিরস্থায়ী হবে না। আনন্দ! পঞ্চশত মাত্র সদ্ধর্মের বিশুদ্ধতা রক্ষা পাবে।” (ত্রিপিটক)

অধর্ম মিটিয়ে বিশুদ্ধ ধর্ম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার জন্যই বুদ্ধের জগতে আগমন হয়ে থাকে। তাই বুেদ্ধর ‘পাঁচশত’ ও ‘এক হাজার’ বছরের এ ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সাব্যস্ত করে ঐ সময়গুলোতে যখন বৌদ্ধ ধর্ম আর অটল ও প্রতিষ্ঠিত থাকবে না তখন শ্বাশত ও বিশুদ্ধ ধর্ম প্রচারের জন্য কোন বুদ্ধের আগমন হবে। যাঁদের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী গৌতম বুদ্ধ করে গেছেন।

গৌতম বুদ্ধের পাঁচশত বছর পরে বুদ্ধ অধ্যুষিত এলাকা আফগানিস্তান, তিব্বত ও কাশ্মিরে যিশু খ্রিষ্টের আগমন হয়েছিল। তিনি এসে ঐ জাতিগুলোর মাঝে ধর্ম প্রচার করেছেন। (এ জন্য দেখতে পারেন পুস্তক ‘মসীহ হিন্দুস্থান ম্যায়, লেখক- হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী(আ.) প্রতিশ্রুত মসীহ ও মাহদী ও ভবিষ্য পুরান ) বিংশ শতাব্দীর অধিকাংশ ঐতিহাসিকদের মতে বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল ৫৬৩ খ্রিষ্ট পূর্বে এবং মৃত্যু হয় ৪৮৩ খ্রিষ্ট পূর্বে। আর যিশু নবুওয়ত লাভ করেন ২৭ বছর বয়সে আর ৩৩ বছর বয়সে ঘটে ক্রুশের ঘটনা । যার পরে তিনি হিজরত করে ভারতবর্ষে আসেন। ৪৮৩ বছরের সাথে ২৭ বা ৩৩ বছর যোগ করলে ৫১০ বা ৫১৬ বছর সময় সীমা হয়। অর্থাৎ বুদ্ধের ৫০০ বছর পরেই যিশুর আগমন হয়েছে।

গৌতম বুদ্ধের এক হাজার বছর পরে নবীদের শিরোমনি হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স.)-এর বিশ্বনবী হিসেবে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ধরাপৃষ্ঠে আগমন হয়েছে। তাঁর(স.) সুভাগমনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সব ধর্মাদেশ স্থগিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি অবধারিত ছিল। এ কারণে বুদ্ধ বলেছেন, মহিলাদের তাদের সঙ্ঘে না নিলেও তাঁর আনিত ধর্ম ব্যবস্থা জগতে এক হাজার বছর প্রতিষ্ঠিত থাকতো। এর চেয়ে বেশি সময় নয়। কারণ তিনি জানতেন, এক হাজার বছর পর জগতে নবীদের নেতা, নরশ্রেষ্ঠ আসবেন। নরশ্রেষ্ঠ সর্ম্পকৃত বর্ণনার প্রায় সবগুলো বৈশিষ্ট্যও(ত্রিপিটক, সুত্তনিপাত, অষ্টক বর্গ, পুরাভেদ সুত্তং- ১/৮৫৪ হতে ১৪/৮৬৭, পৃ- ২৩৯-২৪১) নরশ্রেষ্ঠ খাতামান্নাবীঈন, রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা(স.)এর ক্ষেত্রে পূর্ণ হয়েছে।

ফলে আফগানিস্তান, কাশ্মির ও বাংলাদেশের লোকেরা যাদের হযরত বুদ্ধের প্রতি ভক্তি ছিল, ভালোবাসা ছিল; অগাধ বিশ্বাস ছিল ত্রিপিটকে, তারা আরবের নবী হযরত মুহাম্মদ(স.) এর প্রতি ঈমান এনে মুসলমান হয়ে যান। আপনারা যারা এখনও বৌদ্ধ রয়েছেন, বৌদ্ধশাস্ত্রের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রেখে হযরত মুহাম্মদ(স.)কে মানবেন কি না -এ দায়ভার আপনাদের উপর রেখে দিলাম।