Featured

সকল কল্যাণ নিহিত আছে আল্ কোর’আনে ( ইলহাম)

আল খাইরু কুল্লুহু ফীল কোর’আন

সকল কল্যাণ নিহিত আছে আল্ কোর’আনে (ইলহাম)।



হযরত ইমাম মাহদী ও মসীহ মাউদ আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাঁর আয়নায় কামালতে ইসলাম  পুস্তকে লিখেছেন:
“আল্লাহর কসম! নিশ্চয় এই পবিত্র কোরআন এক অনন্য মুক্ত। এর বাইরে আলো, এর ভিতরে আলো, এর উপরে আলো, এর নিচে কালো, এবং এর প্রতিটি শব্দে আলো। হে এক আধ্যাত্মিক বাগান। এর থোকা থোকা ফল নাগালের মধ্যেই। এর মধ্য দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত। সৌভাগ্যের প্রতিটি ফল এর মধ্যে পাওয়া যায়। এর দ্বারাই প্রতিটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এর আলো আমার এই হৃদয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। এই আলো আমি আর অন্য কোন উপায়েই সংগ্রহ করতে পারতাম না। আল্লাহর কসম! যদি কোরান না থাকতো, তাহলে জীবনে আমি কোন আনন্দই পেতাম না। এর সৌন্দর্য লাখো ইউসুফ এর সৌন্দর্য কে অতিক্রম করে গেছে। আমি এর প্রতি প্রবল আগ্রহে ধাবিত হয় এবং এর থেকে প্রাণ ভরে পান করি। হে আমাকে লালন করেছে, তেমনি ভাবে যেভাবে ভ্রুনো লালিত হয় গর্ভাশয়ে। এর বিস্ময়কর প্রভাবে প্রভাবিত আমার হৃদয়। এর সৌন্দর্য আমাকে দূরে নিয়ে যায় আমার আত্ম থেকে। আমার নিকট কাশফি আলোতে অর্থাৎ দিব্যদৃষ্টির অবস্থায়, প্রকাশিত করা হয়েছে যে, পবিত্রতার বাগান সিঞ্চিত করা হয় কোরআনের বাণী দ্বারা, যা জীবন দাইনি পানির এক উত্তাল মহাসমুদ্র। এর থেকে যে পান করে সে বেঁচে যায়, এবং অন্যদেরকেও বাঁচায়।

পবিত্র কোরআনের যুগোপযোগী ব্যাখ্যা শুনতে এখানে ক্লিক করুন:
https://voiceofislambangla.com

আমরা এই কথার সাক্ষী এবং আমরা সারা দুনিয়ার সামনে এই সাক্ষ্য দান করছি যে, আমরা সেই সত্যতা সেই সাদাকাত যা খোদা পর্যন্ত পৌঁছীয়ে দেয় তা পেয়েছি কোরআন থেকেই। আমরা সেই খোদার আওয়াজ শুনেছি এবং তার শক্তিশালী নিদর্শন দেখেছি যিনি কোর’আন প্রেরণ করেছেন। অতএব, আমরা দৃঢ় ঈমান এনেছি যে তিনিই সত্য খোদা এবং তিনিই সমস্ত জগতের অধিপতি। আমাদের হৃদয় সেই দৃঢ় ঈমান দ্বারা এমন ভাবে ভরপুর যেমন পানি দ্বারা সমুদ্র ভরপুর। সুতরাং আমরা অন্তর্দৃষ্টির ভিত্তিতেই সবাইকে এই ধর্ম এবং এই আলোকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।আমরা সেই সত্য আলো বা সেই নূরে হাকীকি  লাভ করেছি যা অন্ধকারের পর্দা অপসারণ করে, এবং যা আল্লাহ ছাড়া বাকি সব কিছুর প্রতি হৃদয় কে শীতল করে দেয়। এটাই একমাত্র পথ, যে পথে চলে মানুষ প্রবৃত্তির ধারণা এবং অহম-এর অন্ধকার থেকে ঠিক সেভাবেই বেরিয়ে আসে যেভাবে বেরিয়ে আসে, সর্প তার খোলস থেকে।’
-(কিতাবুল বারিয়া পৃষ্ঠা ৬৫)

হযরত ইমাম মাহাদী ও মসীহ্ মাউদ আলাইহিস সাল্লাম ইসলামী নীতি দর্শন পুস্তকে লিখেন যে:
সেই যে খোদা যার সাথে মিলনে মানুষ পরিত্রান বা নাজাত লাভ করে এবং চিরস্থায়ী সুখ ও আনন্দ লাভ করে, তাকে কোরআন শরীফের আনুগত্য ছাড়া কোন মতেই পাওয়া যায় না। হায়! আমি যা দেখেছি, লোকেরা যদি তা দেখতে পেত, এবং আমি যা শুনেছি লোকেরা যদি তা শুনতে পেত, এবং কেচ্ছা কাহিনী কে ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত সত্যের প্রতি ধাবিত হত! সেই পূর্ণ জ্ঞান বা কামেল যার মাধ্যমে খোদা দৃষ্টিগোচর হন! সেই যে ময়লা ধৌতকারি পানি জার দ্বারা সকল সন্দেহ-সংশয় দূরীভূত হয়; সেই যে আয়না যার মধ্য দিয়ে মহান অস্তিত্বের দর্শন লাভ করা যায়; তা হচ্ছে খোদাতালা সাথে সেই বাক্যালাপ ও সম্বোধন যার উল্লেখ একটু আগেই আমি করে এসেছি। যার আত্মার মধ্যে সত্যানুসন্ধিৎসা রয়েছে সে উঠুক এবং অনুসন্ধান করুক। আমি সত্য সত্যই বলছি যে, যদি আত্মা গুলির মধ্যে সত্য অনুসন্ধানের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, যদি হৃদয় গুলো পিপাসার্ত হয় তাহলে লোকেরা যেন সেই পদ্ধতিরই অনুসন্ধান করে, এবং সেই পথেরই সন্ধানে ব্যাপৃত হয়। কিন্তু, সেই যে পথ, তা কোন পদ্ধতিতে উন্মুক্ত হবে, এবং তার পর্দা কোন প্রার্থনা দ্বারা অপসারিত হবে? আমি সকল অনুসন্ধানকারী কে নিশ্চয়তা দান করছি যে, একমাত্র ইসলামই সেই ধর্ম যা সেই পথের সুসংবাদ দান করে। অন্যান্য জাতিগুলো তো বহুকাল যাবত খোদাতালার ইলহাম বা ঐশী বানীর উপর মোহরলাগিয়ে বন্ধ করে রেখেছে। সুতরাং, নিশ্চিত রূপে জেনে রাখ যে, এই মোহর খোদা তা’আলার পথ থেকে লাগানো হয়নি, বরং হতাশার কারণে মানুষ এ এক বাহানা সৃষ্টি করে রেখেছে। নিশ্চয়ই জানবে যে, এটা যেমন সম্ভব নয় যে, আমরা চক্ষু ছাড়াই দেখি, কান ছাড়াই শুনি, জিব্বা ছাড়াই কথা বলি, ঠিক তেমনি এটাও সম্ভব নয় যে, কোরআন ছাড়াই সেই প্রিয় বন্ধুর চেহারা দেখি। আমি যুবক ছিলাম এখন বৃদ্ধ হয়েছি, কিন্তু আমি এমন কাউকেই পাইনি, যে ঐ পবিত্র ঝরনা ছাড়াই স্বচ্ছ মারেফাতের পেয়ালা পান করেছে।’

পবিত্র কোরআনের যুগোপযোগী ব্যাখ্যা শুনতে এখানে ক্লিক করুন:
https://voiceofislambangla.com

ReplyForward

প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ ও ইমাম মাহ্‌দী (আ.)-এর দাবী ও শিক্ষা

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই:), খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস২০ মার্চ, ২০২০

بسم اللہ الرحمن الرحیم যুক্তরাজ্যের (টিলফোর্ড, সারেস্থ) ইসলামাবাদের মুবারক মসজিদে প্রদত্ত সৈয়্যদনা আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর ২০ মার্চ, ২০২০ মোতাবেক ২০ আমান, ১৩৯৯ হিজরী শামসী’র জুমুআর খুতবা তাশাহ্হুদ, তাঊয এবং সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর আনোয়ার (আই.)বলেন: তিন দিন পর ২৩শে মার্চ। এটি সেই দিন, যেদিন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বয়আতের সূচনা করেছিলেন আর এভাবে রীতিমতো তাঁর মসীহ্ মওউদ হওয়ার দাবির পাশাপাশি আহমদীয়াজামা’তেরও ভিত্তি রচিত হয়। এদিনটি আমাদের জামা’তে মসীহ্ মওউদ দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। এই দিবসকে সামনে রেখে জলাসাও হয়ে থাকে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দাবি এবং তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়ে থাকে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেযদিও এখনও তিন দিন বাকি আছে, কিন্তু পরবর্তী জুমুআ যেহেতুউক্ত দিনের (অর্থাৎ ২৩ মার্চের) পরে আসবে তাই আজ আমি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর নিজের ভাষায় তাঁর কিছু উদ্বৃতি উপস্থাপন করব। আজকাল যে মহামারি বিস্তৃত রয়েছে তার কারণে এ বছর হয়তঅধিকাংশ দেশ এবং স্থানেজলসা করা সম্ভব হবে না। তাই আমার খুতবা ছাড়াও এমটিএ-তে এ উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে। সকল আহমদীর নিজেদের ঘরে সন্তানদেরকে নিয়ে সেগুলো শোনার চেষ্টা করা উচিত। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) মহানবী (সা.)-এর দাসত্বে তাঁরই কাজ এবং তাঁর ধর্মকে পৃথিবীতে প্রচার-প্রসারের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমন তিনি (আ.) এক স্থানে বলেন, আমি মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরূদ প্রেরণ করি কেননা তাঁর জন্যই খোদা তা’লা এই জামা’ত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এসব কল্যাণরাজি ও সাহায্য,যা লাভ হচ্ছে তা, তাঁরই আশিসের ফসল। তিনি বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলছি আর এটিই আমার বিশ্বাস এবং ধর্ম যে, রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর আনুগত্য এবং পদাঙ্ক অনুসরণ করা ছাড়া কোন মানুষ কোন প্রকার আধ্যাত্মিক কল্যাণ ও আশিস লাভ করতে পারে না। তিনি (আ.) মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে যে আধ্যাত্মিক কল্যাণরাজি লাভ করেছেন সে কারণে আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে সারা পৃথিবীর সংশোধনের জন্য প্রেরণ করেছেন। ইসলামের মহিমা এবং সম্মান পৃথিবীতে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পাঠিয়েছেন। যেমনএক জায়গায় তিনি (আ.) বলেন, ওয়া আরসালানি রাব্বি লেইসলাহিল খালকে। অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’লা আমাকেসৃষ্টির সংশোধনকল্পেপ্রেরণ করেছেন। এরপর নিজের আগমন বা প্রেরিত হওয়া সম্পর্কে আরো স্পষ্ট করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, এ কথা আমি বার বার বর্ণনা করব আর এর বহিঃপ্রকাশ থেকে আমি বিরত থাকতে পারি না যে, আমি সে ব্যক্তি যাকে যথাসময়ে সৃষ্টির সংশোধনের উদ্দেশ্যে ধর্মকে নতুনভাবে হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যপ্রেরণ করা হয়েছে। আমি সেভাবে প্রেরিত হয়েছি যেভাবে কলিমুল্লাহ্র(অর্থাৎ হযরত মূসার) পর খোদা তা’লার সেই সুপুরুষ প্রেরিত হয়েছিলেন যার আত্মা হেরোডাসের রাজত্বকালেবহু কষ্টের ভেতর দিয়ে অতিবাহিত হওয়ার পর আকাশের দিকে উত্থিত হয়েছে। এরপর এই কথার ঘোষণা দিতে গিয়ে যে, মহানবী (সা.) যে মসীহ্ মওউদ এর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তিনি যথাসময়ে আবির্ভূত হয়েছেনÑ তিনি বলেন, সুতরাং হে ভাইয়েরা! খোদার দোহাই, অনর্থক পীড়াপীড়ি ও বাড়াবাড়ি করো না। এমনসব কথাউপস্থাপন করা আমার জন্য আবশ্যক ছিল যা বুঝতে তোমরা ভুল করেছ। তোমরা যদি পূর্বেই সঠিক পথে থাকতে তাহলে আমার আসার কী-ইবা প্রয়োজন ছিল? আমিপূর্বেই বলেছি যে, আমি এই উম্মতের সংশোধনের জন্য ইবনে মরিয়ম হিসেবে এসেছি আর সেভাবে এসেছি যেভাবে হযরত মসীহ্ ইবনে মরিয়ম ইহুদিদের সংশোধনের জন্য এসেছিলেন। এ কারণেই আমি তার মসীল বা প্রতিচ্ছবি। কেননা আমার ওপর সেই কাজ বা সেই ধরনেরই কাজ অর্পিত হয়েছে যেমনটি তাঁর ওপর অর্পিত হয়েছিল। ঈসা (আ.) আবির্ভূত হয়ে ইহুদিদেরকে অনেক ভুলভ্রান্তি এবং ভিত্তিহীন দৃষ্টিভঙ্গী থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। সেগুলোর একটি ছিল- ইহুদিরা এলিয়া নবীর পুনরায় পৃথিবীতে আগমনের বিষয়ে সেভাবে আশা করে বসেছিল যেভাবে আজকাল মুসলমানরা আল্লাহ্র রসূল মসীহ্ ইবনে মরিয়মের পুনরায় আগমনের আশা করে বসে আছে। তাই এলিয়া নবী এখন আকাশ থেকে অবতীর্ণ হতে পারে না, যাকারিয়ার পুত্র ইয়াহিয়াই এলিয়া, যার গ্রহণ করার গ্রহণ করুকÑএই কথা বলেঈসা (আ.) সেই পুরোনো ভ্রান্তি দূরীভূত করেন আর ইহুদিদের মুখে নাস্তিক ও কিতাববিমুখ আখ্যায়িত হন; কিন্তু যা সত্য ছিল তা তিনি প্রকাশ করেছেন। অতএব তার মসীল বা প্রতিচ্ছবিরও একই অবস্থা হয়েছে আর হযরত ঈসা (আ.)-এর মতো তাকেও নাস্তিক উপাধি দেয়া হয়েছে। এটি কি উন্নত মানের সাদৃশ্য নয়। শুধু মুসলমানদের জন্যই নয় বরং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) সকল জাতি এবং ধর্মকে তাঁর প্রেরিত হওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত করেছেন। যেমন, এক স্থানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, এটিও স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, এই যুগে আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে আমার আগমন শুধু মুসলমানদের সংশোধনের উদ্দেশ্যেই নয় বরং মুসলমান, হিন্দু এবং খ্রিষ্টানÑ এই তিন জাতির সংশোধনই হলো উদ্দেশ্য। যেভাবে খোদা তা’লা আমাকে মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের জন্য মসীহ্ মওউদ হিসেবে প্রেরণ করেছেন একইভাবে আমি হিন্দুদের জন্য অবতার হয়ে এসেছি। আমি আজ ২০ বছর বা ততোধিক কাল থেকে এ কথা প্রচার করে আসছি যে, সেসব পাপ দূরীভূত করার জন্য, যাতে পৃথিবী ভরে গেছে, আমি যেমনটি কি-নামসীহ্ ইবনে মরিয়মের বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছি, সেভাবেই রাজা কৃষ্ণের বৈশিষ্ট্য সহকারেও এসেছি, যিনি হিন্দু ধর্মের সকল অবতারের মাঝে একজন বড় অবতার ছিলেন। অথবা এটি বলা উচিত যে, আধ্যাত্মিক বাস্তবতার নিরিখে আমিই তিনি। এটি আমার কোন ধারণা বা অনুমান-প্রসূত কথা নয়, বরং সেই খোদা, যিনি আকাশ এবং পৃথিবীর খোদা, তিনি আমার সামনে এটি প্রকাশ করেছেন। আর কেবল একবার নয় বরং বহুবার তিনি আমাকে বলেছেন যে, তুমি হিন্দুদের জন্য কৃষ্ণ আর মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের জন্য মসীহ্ মওউদ। আমি জানি যে, অজ্ঞ মুসলমানরা এটি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে বলবে যে, একজন কাফেরের নাম অবলম্বন করে স্পষ্টভাবে নিজের কাফের হওয়া বরণ করে নিয়েছে। কিন্তু এটি খোদার ওহী যা প্রকাশ করা ছাড়া আমি থাকতে পারি না। আজ প্রথমবার এত বড় জনসমাবেশে আমি এ কথা উপস্থাপন করছি, কেননা যারা খোদার পক্ষ থেকে হয়ে থাকে তারা কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় করে না। লেকচার শিয়ালকোটে তিনি এ কথা বলেন, আরমুসলমান এবং হিন্দুদের অনেক বড় এক জনসমাবেশে তিনি এই বক্তৃতা করেছিলেন। এরপর তাঁর প্রেরিত হওয়ার গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বর্ণনা করেন যে, মানুষ আল্লাহ্ তা’লার নির্দেশের যত বিরোধিতা করে তার পুরোটাই পাপের কারণ হয়। এক তুচ্ছ সিপাহী সরকারের পক্ষ থেকে কোন নির্দেশ নিয়ে আসলে তার কথা অমান্যকারী অপরাধী আখ্যায়িত হয় এবং শাস্তি পায়। তুচ্ছ জাগতিক সরকারের অবস্থা যদি এটি হয়ে থাকে তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারকের পক্ষ থেকে আগমনকারীর অসম্মান এবং অবমূল্যায়ন করাতাঁর নির্দেশকে কত ঘৃণ্যভাবে অমান্য করার নামান্তর। আল্লাহ্ তা’লা আত্মাভিমানী, তিনি মানুষকে হেদায়েতের দিকে আহ্বান করার জন্য প্রজ্ঞার দাবি অনুসারে একান্ত প্রয়োজনের সময়ে বিকৃত শতাব্দীর শিরোভাগে এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করেছেন। তাঁর সকল প্রজ্ঞাভিত্তিক সিদ্ধান্তকে পদতলে পিষ্ট করা অনেক বড় একটি পাপ। এরপর তিনি বলেন, মানবীয় বোধবুদ্ধিঐশীপ্রজ্ঞার সমান হতে পারে না। মানুষের কী-ইবা যোগ্যতা আছে যে, ঐশী প্রজ্ঞার চেয়ে বেশি বুঝার দাবি করবে? ঐশী প্রজ্ঞা বর্তমান যুগে প্রকাশ্য ও স্পষ্ট। তিনি বলেন, পূর্বে একজন মুসলমানও যদি ধর্মত্যাগী হতো তাহলে হৈচৈ আরম্ভ হয়ে যেত (তিনি তৎকালের কথা বলছেন), অথচ এখন ইসলামকে এমনভাবে পদদলিত করা হয়েছে যে, এক লক্ষ ধর্মত্যাগী বিদ্যমান রয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন, ইসলামের মতো পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ধর্মের উপর এমনভাবে আক্রমণ করা হয়েছে যে, মহানবী (সা.)-এর বিরুদ্ধে গালি-গালাজে পরিপূর্ণ হাজার-হাজার লক্ষ-লক্ষ পুস্তক ছাপানো হয়। কোন কোন পুস্তিকা তো কয়েক কোটি সংখ্যায়ও মুদ্রিত হয়। ইসলামের বিরুদ্ধে যা কিছু মুদ্রিত হয় সেগুলোর সব যদি একত্রিত করা হয় তাহলে এক বড় পাহাড় হয়ে যাবে। অপরদিকে মুসলমানদের অবস্থা এমন যে, তাদের মাঝে যেন প্রাণই নেই আর তারা সবাই যেন মৃত লাশ। এমন সময়ে যদি খোদা তা’লাও নীরব থাকেন তাহলে কী অবস্থা হবে? খোদার একটি আক্রমণ মানুষের হাজার আক্রমণের চেয়ে বড় এবং তা এমন যে, এর মাধ্যমে ধর্মের নাম সমুন্নত হবে। খ্রিষ্টানরা ঊনিষশত বছর ধরে হৈচৈ করে আসছে যে, যীশু হলেন ঈশ^র আর তাদের ধর্মেরবিস্তার এখনও অব্যাহত আছে। অপরদিকে মুসলমানরা তাদেরকে আরো সহযোগিতা প্রদান করছে। খ্রিষ্টানদের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্রই হলো, মসীহ্ জীবিত আছেন আর তোমাদের নবী (সা.) মারা গেছেন। এরপর তিনি (আ.) বলেন, লর্ড বিশপ লাহোরেএক বড় সমাবেশে এ কথাই উপস্থাপন করে আর কোন মুসলমান এর উত্তর দিতে পারে নি, কিন্তু আমাদের জামা’তের পক্ষ থেকে মুফতি মুহাম্মদ সাদেক সাহেব সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনি উঠে দাঁড়ান এবং পবিত্র কুরআন, হাদীস, ইতিহাস, ইঞ্জিল ইত্যাদি থেকেপ্রমাণ করেন যে, হযরত ঈসা মৃত্যুবরণ করেছেন আর আমাদের নবী (সা.) জীবিত আছেন, কেননা মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে কল্যাণ লাভ করে অসাধারণ ও অলৌকিক নিদর্শন প্রদর্শনকারীগণসকলযুগেইবিদ্যমান ছিল। তখন সে এর কোন উত্তর দিতে পারে নি। তিনি (আ.) বলেন, একবার লুধিয়ানায় আমি খ্রিষ্টানদের উদ্দেশ্যে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করেছিলাম যে, তোমাদের ও আমাদের মাঝে খুব একটা মতভেদ নেই। খুবই সামান্য বিষয়, অর্থাৎ তোমরা স্বীকার করে নাও যে, ঈসা (আ.) মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তিনি আকাশে যান নি। এটি মেনে নিতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এতে তারা খুবই অসন্তুষ্ট ও ক্রুদ্ধ হয়ে বলে, আমরা যদি স্বীকার করে নেই যে, ঈসা (আ.) মৃত্যু বরণ করেছেন এবং আকাশে যান নি তাহলে আজ পৃথিবীতে একজনও খ্রিষ্টান থাকতো না। তিনি বলেন, দেখ! খোদা তা’লা সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান। তিনি এমন পন্থা অবলম্বন করেছেন যার মাধ্যমে শত্রু ধ্বংস হয়ে যাবে। সাধারণ মুসলমানরা কেন এর বিরোধিতা করে! ঈসা (আ.) কি মহানবী (সা.)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন? আমার সাথে যদি বিতণ্ডা থাকে তাহলে এ ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করো না আর এমন কাজ করো না যা ইসলাম ধর্মের ক্ষতি সাধন করে। খোদা তা’লা কোন দুর্বল পন্থা অবলম্বন করেন না। আর এই পন্থা ছাড়া তোমরা ক্রুশ ভঙ্গ করতে পারবে না। এরপর অপর একস্থানে হযরত আকদাস মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, যে কাজের জন্য খোদা তা’লা আমাকে প্রত্যাদিষ্ট করেছেন তা হলো, খোদা ও বান্দার সম্পর্কের মাঝে যে পঙ্কিলতা সৃষ্টি হয়ে গেছে তা দূর করে যেন ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ককে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করি। সত্য প্রকাশের মাধ্যমে ধর্মীয় যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে যেন শান্তি ও মিমাংসার ভিত্তি স্থাপন করি। ধর্মের সেসব নিগুঢ় সত্য, যা বিশ^বাসীর দৃষ্টির আড়ালে চলে গেছে, সেগুলোকে যেন প্রকাশ করি। সেই আধ্যাত্মিকতা, যা মানুষের কুপ্রবৃত্তির নীচে চাপা পড়ে গেছে,তার বাস্তব দৃষ্টান্ত যেন প্রদর্শন করি। আর খোদার ক্ষমতা ও শক্তি যা মানুষের মাঝে প্রবেশ করে মনোযোগ বা দোয়ার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, শুধু মৌখিক দাবির মাধ্যমে নয় বরং ব্যবহারিক অবস্থার মাধ্যমে যেন তার বাস্তবতা উপস্থাপন করি। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সেই খাঁটি ও দীপ্তিময় তৌহিদ, যা সকল প্রকার অংশিবাদিতার মিশ্রণ থেকে পুরোপুরি মুক্ত ও পবিত্র, যা আজ পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, জাতির মাঝে পুনরায় এর চিরস্থায়ী চারা যেন রোপন করি। আর এসব কিছু আমার নিজের শক্তিবলে হবে না বরং সেই খোদার শক্তি ও ক্ষমতাবলে হবে যিনি আকাশ ও পৃথিবীর খোদা। আমি দেখছিÑ একদিকে খোদা স্বহস্তে আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে এবং স্বীয় ওহীর মাধ্যমে আমাকেসম্মানিত করে আমার হৃদয়ে এই উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন যে, আমি যেন এধরনের সংশোধনের জন্য দণ্ডায়মান হই। আর অপর দিকে তিনি এমন হৃদয়ও প্রস্তুত রেখেছেন যারা আমার কথা মানার জন্য প্রস্তুত। আমি দেখছি, যখন থেকে খোদা তা’লা আমাকে প্রত্যাদিষ্ট করে প্রেরণ করেছেন তখন থেকেই পৃথিবীতে এক মহাবিপ্লব সাধিত হচ্ছে। এটি তাঁর (আ.) লেকচার লাহোরের উদ্ধৃতি। আল্লাহ্ তা’লা স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ার বহিঃপ্রকাসার্থে আর বান্দাদের সুরক্ষার জন্য তাঁর প্রত্যাদিষ্ট, সংশোধনকারী বা বিশেষ বান্দাদের প্রেরণ করে থাকেনÑ এ বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি (আ.) বলেন, বিশ্বজগতের প্রতিপালক খোদার আদিরীতি হলো, যখনই পৃথিবীতে কোন প্রকার কষ্ট ও দুর্দশাচরম রূপ ধারণ করে তখন ঐশী অনুগ্রহ তা দূর করার প্রতি মনোযোগী হয়। অনাবৃষ্টির ফলে চরম দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে সৃষ্টিকুল যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকে তখন অবশেষে পরম করুণাময় খোদা যেভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। আরমহামারির ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষযখন প্রাণ হারাতে থাকে তখন যেভাবেবায়ু পরিশুদ্ধ হওয়ার কোন পন্থা বেরিয়ে আসে অথবা নিদেনপক্ষে কোন ঔষধইআবিষ্কার হয়ে যায়। অথবা কোন অত্যাচারীর কালো থাবায় কোন জাতি যখন বন্দি থাকে তখন যেভাবে কোন ন্যায়পরায়ণ ও সাহায্যকারীর জন্ম হয় একইভাবে মানুষ যখন খোদার পথ ভুলে যায় এবং তৌহিদ ও সত্যের অনুগমন পরিত্যাগ করে তখন মহামহিম খোদা তাঁর পক্ষ থেকে কোন বান্দাকে পরিপূর্ণ তত্ত্বজ্ঞান দান করে এবং স্বীয় বাণী ও ইলহামে সম্মানিত করে মানবকুলের হেদায়েতের জন্য প্রেরণ করেন, যেন যে অবক্ষয় সাধিত হয়েছেতিনি তার সংশোধন করেন। এতে নিহিত প্রকৃত রহস্য হলো, পালনকর্তা খোদা, যিনি মহাবিশে^র স্থিতি ও স্থায়িত্বদাতা এবংমহাবিশে^র অস্তিত্বের যিনি একমাত্র অবলম্বন; তিনিসৃষ্টির জন্য কল্যাণসাধনের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশে দ্বিধা করেন না আর একে বেকার এবং অকেজো অবস্থায়ও ছেড়ে দেন না বরং তাঁর প্রতিটি বৈশিষ্ট্যযথাস্থানে ও যথাউপলক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়। পুনরায় একস্থানে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, সেই ব্যক্তি অতি কল্যাণমণ্ডিত ও সৌভাগ্যবান যার হৃদয় পবিত্র। সে চায় যে, আল্লাহ্ তা’লার মাহাত্ম্য ও প্রতাপ প্রকাশিত হোক, কেননা আল্লাহ্ তা’লা তাকে অন্যদের ওপর প্রাধান্য দান করেন। যারা আমার বিরোধিতা করে তাদের ও আমাদের মাঝে সিদ্ধান্ত আল্লাহ্ তা’লারই হাতে। তিনি আমার ও তাদের হৃদয়ের অবস্থা খুব ভালোভাবে জানেন আর দেখেন যে, কার হৃদয় লোক দেখানো ও প্রদর্শনের মোহে আচ্ছন্ন আর কে শুধু খোদা তা’লার জন্য নিজের হৃদয়ে এক অন্তর্দাহ লালন করে। তিনি (আ.) বলেন, তোমরা খুব ভালোভাবে স্মরণ রেখো! হৃদয় পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত আধ্যাত্মিকতা কখনোই উন্নতি করে না। হৃদয়ে যখন পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা সৃষ্টি হয় তখন তাতে উন্নতির জন্য বিশেষ শক্তি ও যোগ্যতা সৃষ্টি হয়ে যায় আর এরপর এর জন্য সকল প্রকার উপকরণ সামনে এসে যায় এবং সে উন্নতি করে। মহানবী (সা.)-এর প্রতি তাকাও! তিনি সম্পূর্ণ একা ছিলেন আর এই নিসঙ্গ ও অসহায় অবস্থায় দাবি করেন যে, يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا তখন কে ভাবতে পারত যে, এমন নির্বান্ধব ও নিসঙ্গ একজন মানুষের এই দাবি ফলপ্রদ হবে। আর একইসাথে তিনি এত বেশি বিপদাপদের সম্মুখীন হয়েছেন যার হাজার ভাগের এক ভাগেরও আমরা সম্মুখীন হইনি। অতঃপর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) সামগ্রিকভাবে জগদ্বাসীকে সম্বোধন করে বলেন, আমাদের সর্বশেষ উপদেশ হলো, তোমরা নিজেদের ঈমানীঅবস্থা খতিয়ে দেখ। এমনটি যেন না হয় যে, তোমরা অহংকার ও উদাসীনতা দেখিয়ে মহা পরাক্রমশালী খোদার দৃষ্টিতে বিদ্রোহী বলে পরিগণিত হবে। দেখ! খোদা তোমাদের প্রতি এমন সময় কৃপাদৃষ্টি দিয়েছেন যা প্রকৃতই দৃষ্টি দেয়ার সময় ছিল। অতএব চেষ্টা কর যেন সকল সৌভাগ্যের উত্তরধিকারী হতে পার। খোদা তা’লা ঊর্ধ্বলোক থেকে দেখেছেন যে, যাকে সম্মান দেয়া হয়েছে তাকে পদপিষ্ট করা হয়। আর সেই মহান রসূল (সা.) যিনি সর্বোত্তম মানব ছিলেন, তাঁকে গালি দেয়া হয়। তাঁকে অপরাধী ও মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যা উদ্ভাবনকারীদের মাঝে গণ্য করা হয়। আর তাঁর কিতাব অর্থাৎপবিত্র কুরআন সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে সেটিকে মানুষের বানানো কথা মনে করা হয়। অতএব তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি স্মরণ করেছেন। সেই প্রতিশ্রুতি যাإِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ(সূরা হিজর: ১০)আয়াতে রয়েছে। অতএব আজ সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবার দিন। তিনি অনেক বড় জোরালে আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের নিদর্শন দ্বারা তোমাদের সামনে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন যে, এই যে জামা’ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এটি তাঁরই জামা’ত। তোমাদের চোখ কি পূর্বে কখনো খোদা তা’লার এমন অকাট্য এবং সুনিশ্চিতনিদর্শন দেখেছে যা তোমারা এখন দেখেছ? খোদা তা’লা তোমাদের জন্য মল্লযোদ্ধার ন্যায় বি-জাতির সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছেন। দেখ! আথমের বিষয়টিও এক প্রকার মল্লযুদ্ধ ছিল। খুঁজে দেখ, আজ অথম কোথায়? শোন! আজ সে ধুলিসাৎ হয়ে গেছে। ইলহামের শর্ত অনুযায়ী, তাকে গুটিকতক দিন অবকাশ দেয়া হয়েছিল, এরপর সে সেই শর্ত অনুযায়ীধরা পড়েছে যা ইলহামে ছিল। দ্বিতীয় মল্লযুদ্ধ ছিল লেখরামের বিষয়টি। অতএব চিন্তা করে দেখ, এই মল্লযুদ্ধেও খোদা তা’লা কীভাবে বিজয়ী হয়েছেন! আর তোমরা নিজেদের চোখে দেখেছ যে, ইলহামী ভবিষ্যদ্বাণী সমূহে পূর্বেই যেভাবে তার মৃত্যুর লক্ষণাবলী নির্ধারণ করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই সেসব লক্ষণ প্রকাশিত হয়েছে। খোদা তা’লার ক্রোধের নিদর্শন এক জাতিকে শোক-সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। তোমরা ইতিপূর্বে কখনো তোমাদের মাঝে এবং তোমাদের সম্মুখে এতপ্রতাপের সাথে খোদা তা’লার নিদর্শন প্রকাশিত হতে দেখেছ কি? অতএব হে মুসলমানের বংশধরগণ! খোদা তা’লার কাজের অসম্মান করো না। তৃতীয় মল্লযুদ্ধ ধর্ম মহোৎসব সংক্রান্ত। দেখ সেই মল্লযুদ্ধেও খোদা তা’লা ইসলামের নাম ও সম্মান সমুন্নত রেখেছেন এবং তোমাদেরকে স্বীয় নিদর্শন দেখিয়েছেন। আর সময়ের পূর্বেই নিজ বান্দার কাছে প্রকাশ করেছেন যে, তাঁরই প্রবন্ধ বিজয়ী হবে; আর অবশেষে তা করেও দেখিয়েছেন। আর সেই প্রবন্ধের কল্যাণময় প্রভাব দ্বারা সমস্ত উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাকে হতবাক করে দিয়েছেন। এটি কি খোদার কাজ ছিল নাকি অন্য কারো? [এখানে সে জলসার উল্লেখ করা হচ্ছে, যাতেতাঁর (আ.) পুস্তক ইসলামী নীতিদর্শন পাঠ করা হয়েছিল, আর এর সফলতার বিষয়ে পূর্বেই আল্লাহ্ তা’লা তাঁকে জানিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি (আ.) তা ঘোষণাও করেছিলেন, তাছাড়া অ-আহমদীরাও নির্দ্বিধায় এ কথা স্বীকার করে যে, নিশ্চিতভাবে এটি সর্বোৎকৃষ্ট প্রবন্ধ ছিল। ] এরপর তিনি (আ.) বলেন, চতুর্থ মল্লযুদ্ধ ছিল ডাক্তার ক্লার্কের মোকদ্দমা,যাতে তিন তিনটি জাতি তথা আর্য,খ্রিষ্টান এবং বিরোধী মুসলমানরা আমার বিরুদ্ধেহত্যাচেষ্টার অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে খোদা তা’লা পূর্বেই প্রকাশ করে দিয়েছিলেন যে, তারা নিজেদের দুরভিসন্ধিতে ব্যর্থ হবে। দু’শর অধিক লোককে ঘটনার পূর্বেই এই ইলহাম শুনানো হয়েছিল। আর অবশেষে আমাদেরই বিজয় হয়। পঞ্চম মল্লযুদ্ধ ছিলমির্যা আহমদ বেগ হুশিয়ারপুরীর মোকদ্দমা যার আত্মীয়-স্বজন এবং সমমনারা ইসলামকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো আর তাদের মাঝে কতক চরম মুর্তাদ কুরআন শরীফকে চরমভাবে অস্বীকার করে আর ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে আমার কাছে ইসলামের সত্যতার নিদর্শন চাইত এবং বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতো। অতএব খোদা তা’লা তাদেরকে এই নিদর্শন প্রদর্শন করেন, অর্থাৎ(জানানো হয়েছে যে,) আহমদ বেগ তাদের কতক আত্মীয়স্বজনের মৃত্যু এবং বিপদাবলী দেখার পর তিন বছরের মাঝে নিজেও মৃত্যু বরণ করবে। অতএব এমনটিই হয় আর সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যু বরণ করে, যেন তারা অনুধাবণ করতে সক্ষম হয় যে, প্রত্যেক ধৃষ্টতার শাস্তি রয়েছে। অতএব তিনি (আ.) পৃথিবীকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে প্রেরিত মহাপুরুষের বিপক্ষে যুদ্ধ করো না। যেহেতু আল্লাহ্ তা’লা প্রেরণকরেছেন তাই তিনি সাহায্য ও সহযোগিতাও করবেন এবং নিদর্শনও প্রদর্শন করবেন। তিনি (আ.) বলেন, আল্লাহ্ তা’লা আমাকে প্রতাপান্বিত শব্দে জানিয়েছেন যে, পৃথিবীতে একজন সতর্ককারী এসেছেন কিন্তু পৃথিবী তাকে গ্রহণ করেনি। কিন্তু খোদা তা’লা তাকে গ্রহণ করবেন এবং অনেক শক্তিশালী আক্রমণ সমূহের মাধ্যমে তাঁর সত্যতা প্রকাশ করবেন। সুতরাং আজ ২০০টিরও অধিক দেশে বিস্তৃত আহমদীয়া জামা’ত এ কথার ঘোষণা দিচ্ছে যে, আল্লাহ্ তা’লা তাঁর (আ.) সত্যতা পৃথিবীবাসীর সামনে প্রকাশ করে চলেছেন। আল্লাহ্তা’লা আমাদেরও তাঁর মিশনের প্রচার ও প্রসারের কাজে অংশগ্রহণের তৌফিক দিনএবং আমাদের ঈমান ও বিশ্বাসে দৃঢ়তা প্রদান করুন, আর আমাদেরকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের সামর্থ্য দান করুন। এখন আমি আজকাল যে মহামারিছড়িয়ে আছে সে সম্পর্কেজগৎপূজারীদের মতামত এবং বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চাই। ফিলিপ জন্সটন দৈনিক টেলিগ্রাফে গত ১৮ মার্চ ২০২০ তারিখে লিখেন যে, নেটফ্লিক্স ও অনুরূপ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর রিপোর্ট হলো, আজকাল প্রদর্শিত ২০১১ সালের একটি চলচ্চিত্র অনেক জনপ্রিয়তা লাভ করছে, যার নাম হলোঈড়হঃধমরড়হ (কনটেইজিওন)। এই চলচ্চিত্রেরকাহিনীতে একটিভাইরাসেরবিস্তার, চিকিৎসা গবেষক ও স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাধিনিরূপণ এবং এর ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভের পূর্ণ চেষ্টা, সমাজ ব্যবস্থার চরম বিপর্যয় আর অবশেষে এর বিস্তার রোধেটিকা আবিষ্কারের কথা বলা হয়েছে। তিনি লিখেন যে, আমি মনে করি এভাবে পৃথিবীর ধ্বংসের বিষয় নিয়ে বানানো চলচ্চিত্রে আমাদের আগ্রহ হয়ত আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও উন্নতির ফলাফল, অর্থাৎ জগৎপূজারীরা যে উন্নতি করছে তার ফলাফলÑ যার সম্পর্কে আমাদের অধিকাংশের ধারণা হলো,এই উন্নতিস্থায়ী। তিনি বলেন, আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে আমাদের পৃথিবী পুরোপুরি পাল্টে গেছে। তিনি আরও লিখেন, আমাদের সব পরিকল্পনা থমকে গেছে, আর ভবিষ্যতের ব্যাপারেও আমাদের সমস্ত আশা অনিশ্চিতার দোলায় দুলছে। তিনি আরও বলেন, স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা কিংবা সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংকটেরও এমন প্রভাব পড়ে নি, যেমনটি আজ এই মহামারির ফলে পড়ছে। এমনকি বিগত বিশ^যুদ্ধের সময়ও মানুষ থিয়েটার, সিনেমা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, ক্লাব, পাব ইত্যাদিতে যেত; নিদেনপক্ষে এই জিনিসগুলো ছিল যা মানুষ করতে পারত, কিন্তু এখন আমরা এগুলোও করতে পারছি না। এরপর আরো বলেন, আমাদের অধিকাংশযারা দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের পর বড় হয়েছি, আমরা সর্বদা স্বাচ্ছন্দ্য এবং সেই শান্তি ও স্থিতিশীলতাপ্রত্যাশা করে এসেছি, যা পূর্বের প্রজন্মগুলো কখনো ভাবতেও পারে নি; আর তারা এমনটি ভাবার অবস্থায়ও ছিল না। তিনি আরও লিখেন, আমি আশা করি বিজ্ঞান এই রোগের কোন প্রতিষেধক বা চিকিৎসা নিয়ে আমাদের উদ্ধারকল্পে এগিয়ে আসবে, আর সম্ভবত এটা হবেও; আমেরিকার সিয়াটলে আজ মানব স্বেচ্ছাসেবীদের উপর এই টিকা পরীক্ষা করার সূচনা হয়েছে, কিন্তু দুঃসংবাদ হলো- এটা জানতেও কয়েকমাস লেগে যাবে যে, এই টিকায় আদৌ কোন লাভ হবে কি-না! তিনি আরও লিখেন, সমগ্র মানব ইতিহাসে মানুষনিজেদের ধর্মকে অবলম্বন করেই এরূপ পরিস্থিতি কাটিয়েছে; অতীতের যে ইতিহাস রয়েছে, যখনই এমন ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তখন তারা স্বীয় ধর্মের আশ্রয় নিয়েছে এবং এই অবস্থার উত্তরণ হয়েছে, আল্লাহ্র প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছে; যেন তাদের ও তাদের প্রিয়জনদের সাথে যা হয়েছে তাকে কোনভাবে অর্থবহ করে তুলতে পারে। অতঃপর তিনি আরো লিখেন,‘লা মাযহাব’বা ধর্মহীনরাএমন সময়ে সর্বদা নিজেদের স্বান্তনার জন্য একটি ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গী অবলম্বন করে। এটি মূলত একটি আলোকিত ধারণা যা ধর্মহীনরা ধারণ করে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গী হলো মানবীয় প্রচেষ্টায় প্রাকৃতিক ঘটনাবলীকে সর্বদা উন্নত করা যেতে পারে আর সেটিকে ভাগ্য বা খোদার ক্রোধের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা আবশ্যক নয়। এরপর তিনি বলেন, আমরা বহুবার মানুষকে এটি বলতে শুনেছি যে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। কারণ বিজ্ঞানীরা কোন সমাধান বের করে ফেলবে, সেটা বৈশ্বিক উষ্ণতার সমস্যা হোক বা কোন মহামারিই হোক না কেন। আমরা অচিরেই এটি জানতে পারব যে, এরূপ আশা করা ঠিক কি না। তিনি যেহেতু বস্তুবাদী তাই বলেন,যদি এরূপ না হয়ে থাকে তাহলে আমি হয়ত আবার খ্রিষ্টধর্মের দিকে ফিরে যাব, এখন আমি ধর্ম থেকে দূরে, খোদা থেকে দূরে, আর বাহ্যত যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাতে তা-ই মনে হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা যেভাবে বলছে যদি সেটি না হয়তাহলে আমাদেরও চার্চের দিকে এবং ধর্মের দিকে ফিরে যাবার কথা ভাবতে হবে। অতএব, এই ভাইরাস পৃথিবীবাসীকে এটি ভাবতে বাধ্য করেছে যে, খোদার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। কিন্তু প্রকৃত ও জীবন্ত খোদা তো কেবলমাত্র ইসলামের খোদা, যিনি নিজের দিকে আগতদেরকে পথ প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন। যে একটি পদক্ষেপ নেয় তিনিকয়েক পদক্ষেপ এগিয়ে তার হাত ধরার ঘোষণা করেছেন, তাকে নিজের আশ্রয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অতএব, এরূপ অবস্থায় আমাদের যেখানে নিজেদের সংশোধন করা প্রয়োজন, সেখানেকার্যকরভাবেতবলীগওকরা প্রয়োজন, পৃথিবীবাসীর কাছেপূর্বাপেক্ষা অধিক হারে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরাপ্রয়োজন। আর প্রত্যেক আহমদীর পৃথিবীবাসীকে এ সংবাদ পৌঁছানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন যে,স্বীয় অস্তিত্বের নিশ্চয়তা যদি চাও তাহলেনিজ স্রষ্টা খোদাকে চেনো। যদি নিজের উত্তম পরিণতি চাও তবে তোমার স্রষ্টা খোদাকে চেনো, কেননা পারলৌকিক শুভ পরিণামই প্রকৃতকাম্য হওয়া উচিত। তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার করো না এবং তাঁর সৃষ্টির অধিকার প্রদান কর। অতএব এটি সর্বদা চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ্ তা’লা সবাইকেএর তওফীক দান করুন। জগৎপূজারীরাও বলছে যে, এসব বিপদাপদ এখন ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তাই নিজেদের শুভ পরিণামের জন্য আমি যেমনটি বলেছি, আমাদের জন্যও আবশ্যক হলো আমরা যেন খোদা তা’লার প্রতি মনোযোগী হই এবং পৃথিবীবাসীকেও যেন অবগত করি যে, প্রকৃত পরিণাম হলো পারলৌকিক পরিণাম, যার জন্য তোমাদেরকে খোদা তা’লার দিকে অবশ্যই আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে‘দি টাইমস’-এ ৬ মার্চ তারিখে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল। একজন বিশেষজ্ঞ (এতে) সতর্ক করেছেন যে, ভয়ঙ্কর ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা অনেক বেশি। একই সাথে কয়েক বছরের মধ্যে একটি নতুন করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা রয়েছে। তিনি লিখেছেন যে, আগামী প্রতি তিন বছর অন্তর হয়ত নতুন কোন ব্যাধি সামনে আসতে পারে। অতঃপর ব্লুমবার্গ-এর পক্ষ থেকেও একটি প্রবন্ধ লেখা হয়েছে। তারা লেখে যে, বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসকে হয়ত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে, কিন্ত মহামারির বিরুদ্ধে মানবজাতির যুদ্ধ কখনো শেষ হবে না। মানবজাতি ও জীবাণুদের মধ্যবর্তী বিবর্তনের প্রতিযোগিতায় জীবাণুরাপুনরায় সামনে আসছে। বিশ^ স¦াস্থ্য সংস্থার মতে ১৯৭০ এর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৫০০ এরও অধিক নতুন ভাইরাসের খোঁজ পাওয়া গেছে। আর একবিংশ শতাব্দীতে মহামারি পূর্বের তুলনায় অধিক দ্রুত এবং দূর-দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। অতঃপর তারা বলে, পূর্বে যেসব মহামারি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছিল তা আজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে। যাহোক এর বিবরণ অতি দীর্ঘ যার সব এখানে তুলে ধরাসম্ভব নয়, কিন্তু নিজেদের শুভ পরিণামের জন্য যেভাবে আমি বলেছি, খোদা তা’লার সাথে আমাদের সম্পর্ক পূর্বের চেয়ে আরো দৃঢ় করতে হবে, আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দান করুন। করোনা মহামারি সম্পর্কে আমি পূর্বেই দিক-নির্দেশনা দিয়েছি, পুনরায় স্মরণ করাতে চাই, কেননা এটি এখন পুরো বিশ্বে খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে আর এখানেও এটি অনেক ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সরকারও এখন এই বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে এবং কঠোর ও বড় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিভিন্ন রোগব্যাধি ও মহামারি যখন দেখা দেয় তখন সবাইকেই আক্রান্ত করতে পারে। তাই প্রত্যেকেরই অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। সরকারী নির্দেশনাগুলো পালন করুন। বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়এমন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেক বেশি সাবধান থাকতে হবে। বয়োবৃদ্ধরা ঘর থেকে কম বের হবেন আর সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘোষণাই করা হয়েছে। কেবলমাত্র যাদের স্বাস্থ্য বেশ ভালোতারা ছাড়া অন্যদের ঘরেই অবস্থান করা উচিত। মসজিদে আসার ক্ষেত্রেও সাবধানতা অবলম্বন করুন। জুমুআর নামাযও নিজ এলাকার মসজিদে আদায় করুন, আর আজকে এখানকার উপস্থিতি দেখেও মনে হচ্ছে অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ এলাকাতেই জুমুআ আদায় করছেন, যতক্ষণ না এই বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় যে, জুমুআর জন্যও যেন গনজমায়েত না হয়। মহিলারা মসজিদে আসা থেকে বিরত থাকুন। তারা শিশুদের সাথে নিয়ে আসে তাই তাদের বিরত থাকা উচিত। তাছাড়া আজকাল ডাক্তাররাও এটিই বলছেন যে, নিজেদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্রামের প্রতিও দৃষ্টি দেয়া উচিত। এরজন্য নিজের ঘুম পূর্ণকরা চাই। তাই নিজের ঘুম পূর্ণ করুন, নিজেরাও এবং সন্তানরাও। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ৬/৭ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন আর শিশুদের জন্য ৮/৯ ঘন্টা বা ১০ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এদিকেও দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এমনটি যেন না হয় যে, সারা রাত বসে টিভি দেখতে থাকবে আর তা বারোটা পর্যন্ত চলবে। এরপর একে তো নামাযে উঠতে পারবে না আর অপরদিকে সকালে দ্রুত উঠে কয়েক ঘন্টার মধ্যে কাজে যাওয়ার কষ্ট। যারফলে সারাদিন আলস্য ও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হবে। এছাড়া কজের ক্লান্তি তো আছেই। আর এ কারণেইএসব রোগব্যাধিও আক্রমণ করে। একইভাবে শিশুদের মাঝেও তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং ৮-৯ ঘন্টার ঘুম সম্পন্ন করে আগে উঠার অভ্যাস সৃষ্টি করুন। অতঃপর বাজারের জিনিস খাওয়া থেকেও বিরত থাকুন। এগুলো থেকেও রোগব্যাধি ছড়িয়ে থাকে, বিশেষত চিপ্স ইত্যাদির যেসবপ্যাকেট রয়েছে, এগুলো মানুষ শিশুদের খেতে দিয়ে থাকে, বা এমনসব তৈরি খাবার যাতে বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ দেয়া থাকে, এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব এড়িয়ে চলাউচিত। এগুলোওমানব দেহকে ধীরে ধীরে দুর্বল করতে থাকে। এছাড়া ডাক্তাররা আজকাল এটিও বলে যে, পানি বারবার পান করা উচিত। একঘন্টা, আধা ঘন্টা বা পৌনে এক ঘন্টা পর পর এক দুই ঢোঁক পানি পান করা আবশ্যক; এটিও রোগ থেকে বাঁচার একটি উপায়। হাত পরিষ্কার রাখা উচিত; সেনিটাইজার পাওয়া না গেলেও হাত ধুতে থাকুন। আমি যেমনটি পূর্বেও বলেছিলাম দৈনিক যারা অন্ততপক্ষে পাঁচবার ওযু করে তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সুযোগ লাভ করে; এদিকেও মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। হাঁচি সম্পর্কে পূর্বেও আমি বলেছি যে, মসজিদেও এবং সাধারণ স্থানেও, নিজ ঘরে থাকা অবস্থায়ও হাঁচি দেয়ার সময় রুমাল নাকের সামনে রাখুন। এখন অনেক ডাক্তার এটিও বলেন যে, বাহু সামনে রেখে তাতে হাঁচি দিন যেন এদিক সেদিক হাঁচির ফোঁটা না ছড়ায়। মোটকথা, পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত আবশ্যক এবং এদিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত, কিন্তু সর্বশেষ অস্ত্র হলো দোয়া। আর এই দোয়া করা উচিত যে, আল্লাহ্ তা’লা আমাদের সবাইকে এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন। বিশেষত সেই সমস্ত আহমদীদের জন্যও দোয়া করুন যারা কোন কারণে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন অথবা ডাক্তাররা তাদের এ রোগ হয়েছে বলে সন্দেহ করে বা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত; তাদের সবার জন্য দোয়া করুন। অনুরূপভাবে যে কোন রোগের দুর্বলতার কারণে, আমি যেমনটি বলেছি, ভাইরাস আক্রমণ করে, তাদের জন্যও দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে রক্ষা করুন। সার্বিকভাবে সবার জন্য দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা পৃথিবীকে এই মহামারির কবল থেকে রক্ষা করুন। যারা অসুস্থ রয়েছে আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে পূর্ণ আরোগ্য দান করুন আর সকল আহমদীকে আরোগ্য দানের পাশাপাশি ঈমান ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে দৃঢ়তা সৃষ্টির তৌফিক দান করুন। ——————————————————————————————- জরুরী এলান আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু। আপনারা অবগত আছেন যে, চারদিন ব্যাপি ‘সত্যের সন্ধানে’ অনুষ্ঠান গতকাল অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় হুযুর(আই.)-এর জুম্মার খুতবার পর রাত ৮.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ ২০২০ ইং রাত ৮টা থেকে শুরু হবে। এবার বাংলাদেশ স্টুডিও থেকে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কারনে প্রশাসন ‘লক ডাউন’ করেছেন। তাই আপনাদের অনুরোধ করা যাচেছ যারা মসজিদে অনুষ্ঠান দেখতে আসতে পারবেন না এবং যাদের বাসায় ডিশ নাই তারা যেন বাসায় ইউটিউব বা ফেসবুকের মাধ্যমে অনুষ্ঠানগুলো দেখেন। অনুগ্রহপূর্বক আপনাদের নিজ জামা’তে এবং স্ব-স্ব অঞ্চলে এখনই সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংবাদটি জানিয়ে দিন আহমদী ভ্রাতা ও ভগ্নীরা নিজেরা দেখবেন ও নওমোবাঈন সদস্যদের এই আয়োজনগুলো মনোযোগ সহকারে দেখার ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া নিজেদের অ-আহমদী আত্মীয়-স্বজন, পাড়া- প্রতিবেশী আর বন্ধু-সহকর্মীদেরকে এই অনুষ্ঠানগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। রবিউল ইসলাম মোবাল্লেগ ইনচার্জ দপ্তর আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশ খুতবা সানিয়ায় এ এলানটি পড়ে শুনানোর জন্য বিশেষ করে অনুরোধ করছি।

ঘরে ঘরে কোরআন! এপিসোড ১১। আল্লাহর অস্তিত্ব। “আল্লাহ্‌ তিনি – যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব-জীবনদাতা, তিনি নিজ সত্তায় স্থায়ী অপরকে স্থিতিদাতা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলী ও প্রথিবীতে যা-ই আছে সবই তাঁর। কে সে যে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর কাছে শাফায়াত (সুপারিশ) করতে পারে! এদের সামনে এবং এদের পিছনে যা আছে সবই তিনি জানেন। এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া এরা তাঁর জ্ঞানের কিঞ্চিত পরিমানও আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর রাজত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপৃত। এবং এই উভয়ের রক্ষনাবেক্ষণ তাঁকে মোটেও ক্লান্ত-প্ররিশ্রান্ত করে না। আর তিনি অতি উচ্চ, অতিব মহান।”(সূরা বাকারাঃ ২৫৬)https://youtu.be/Ibf5LaZt-uE

ঘরে ঘরে ঘরে কোরআন! এপিসোড ১১। আল্লাহর অস্তিত্ব। “আল্লাহ্‌ তিনি – যিনি ছাড়া কোন উপাস্য নাই। তিনি চিরঞ্জীব-জীবনদাতা, তিনি নিজ সত্তায় স্থায়ী অপরকে স্থিতিদাতা। তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলী ও প্রথিবীতে যা-ই আছে সবই তাঁর। কে সে যে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর কাছে শাফায়াত (সুপারিশ) করতে পারে! এদের সামনে এবং এদের পিছনে যা আছে সবই তিনি জানেন। এবং তাঁর অনুমতি ছাড়া এরা তাঁর জ্ঞানের কিঞ্চিত পরিমানও আয়ত্ব করতে পারে না। তাঁর রাজত্ব আকাশ ও পৃথিবী ব্যাপৃত। এবং এই উভয়ের রক্ষনাবেক্ষণ তাঁকে মোটেও ক্লান্ত-প্ররিশ্রান্ত করে না। আর তিনি অতি উচ্চ, অতিব মহান।”(সূরা বাকারাঃ ২৫৬)https://youtu.be/Ibf5LaZt-uE

#হৃদয়ের_দ্বার, এপিসোড ২৪ ।

যুগের পর যুগ ধরে আহমদী মুসলমানদের উপর এত অত্যাচার কেন করা হচ্ছে? যারা অত্যাচার অতীতে করেছে এবং এখন করছে তাদের পরিণাম কী হয়েছে এবং হবে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে যে ঘটনাটি ঘটে গেল সে সম্বন্ধে বলুন এবং যারা অত্যাচার করেছে তাদেরকে সতর্ক করে বলছেন মাওলানা বশিরুর রহমান , প্রফেসর জামিয়া আহমেদিয়া বাংলাদেশ।